Showing posts with label শিশু. Show all posts
Showing posts with label শিশু. Show all posts

Wednesday, 2 October 2019

এক মাস বয়সী শিশুর বিকাশ এবং বাবা-মার করণীয়

এক মাস বয়সী শিশুর বিকাশ এবং বাবা-মার করণীয়


শিশু জন্মের পর অন্তত এক দুই মাস বাবা মায়ের বিক্ষিপ্ত অবস্থায় সময় কাটে। বারবার কাঁথা পাল্টানো, ডায়াপার পাল্টানো, অসুখ লেগে থাকা, রাতের ঘুম বলতে জীবনে কিছু না থাকা- সব মিলিয়ে একেবারে পারফেক্ট হ য ব র ল অবস্থা যাকে বলে! এর মধ্যে বাচ্চার ডেভেলপমেন্টাল টাস্ক বা স্টিমুলেশনের বিষয়গুলো মাথায় রাখা খুবই কঠিন কাজ। তবুও পরে পস্তাতে না চাইলে প্রথম থেকেই সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলাটাই ভালো। শিশুর বিকাশ প্রথম এক মাসে কেমন হয়? এখানে সপ্তাহ অনুযায়ী দেয়া হলো।
একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সময়ে তার যে বিকাশ হয় সেটাকে অল্প শব্দে বাঁধাই করা মুশকিল। প্রতিটি দিন তার বয়স এক দিন করে বাড়ে, সেই সাথে তার Motor, Emotional, Social, Cognitive, Moral & Conscience, Self Concept, Language, Speech development সহ নানাবিধ বিকাশ চলতে থাকে। প্রত্যেকটি বিকাশেরই বিভিন্ন স্তর আছে, ডেভেলপমেন্টাল টাস্ক আছে।
এই লেখাতে কোন স্পেসিফিক ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আলোচনায় যাবো না, ওভারঅল বিকাশের সাধারণ পথ ধরে শিশু তার প্রথম বছরে, বায়ান্নটি সপ্তাহে কিভাবে বড় হয় তা দেখবো-
সপ্তাহ ০১
জন্মের এক সপ্তাহেই নবজাতক শিশু তার মায়ের উপর ভরসা করতে শুরু করে। সে মায়ের কন্ঠস্বর চিনতে পারে। এটিই এই অচেনা পৃথিবীতে তার প্রথম অভিযোজন প্রক্রিয়া। তাই যত বেশি পারা যায়, শিশুর সাথে কথা বলুন। সে আপনার কথা বুঝতে পারবে না, কিন্তু ভালোবাসার-স্নেহের উষ্ণতা অনুভব করতে পারবে।
আরো পড়তে পারেন-
সপ্তাহ ০২-
এই সপ্তাহে আপনার শিশু আট থেকে চৌদ্দ ইঞ্চি পর্যন্ত দূরের বস্তু দেখতে পারে। ব্রেস্টফিড করানোর সময় নিজের মাথা এক পাশ থেকে অন্য পাশে নাড়ান। অথবা বাবুর চোখের সামনে আঙ্গুলও নাড়াতে পারেন। খেয়াল করুন সে দেখার চেষ্টা করছে কি না। এটি শিশুর আই মাসল ও ট্র্যাকিং স্কিল বাড়াতে সাহায্য করে।
সপ্তাহ ০৩-
যদিও শিশুর মুভমেন্ট এখনও অনিয়ন্ত্রিত, তবুও খেয়াল করবেন সে এখন আরামদায়কভাবে শুতে চাইছে। সে এখন তার মায়ের ঘ্রাণ বুঝতে পারে, মায়ের কাছে শান্তি ও স্বস্তি অনুভব করে। শিশু ও প্যারেন্টের ‘এ্যাটাচমেন্ট’ এর প্রথম পর্যায় শুরু হয় এই সপ্তাহে।
সপ্তাহ ০৪-
‎লক্ষ্য করেছেন, কান্না ছাড়াও আপনার শিশু এখন তার ভোকাল কর্ডকে অন্যভাবে ব্যবহার করছে? সে এই সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন শব্দ করার চেষ্টা করবে, বিশেষ করে মা কিংবা বাবাকে দেখলে ‘আহ’ বা অন্য কিছু বলার চেষ্টা করবে। শিশু অন্যদের দেখে শিখে, তাই সে এধরণের শব্দ করলে অবশ্যই তাকে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে সে যে শুধু খুশি হবে তা নয়, সে বুঝতে পারবে ভয়েস তার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। কারণ সে ডাকলে আপনি তাতে সাড়া দেন।
ফুটনোট:-*প্রতিটি শিশুই ইউনিক। তাই সবার বিকাশ একই রকমভাবে হবে না। কেয়ারগিভার হিসেবে আপনার যা যা করা উচিত তা করুন। অনেক সময় সঠিক স্টিমুলেশনের অভাবে শিশুর বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। শিশুর কোনরকম শারীরিক সমস্যা মনে করলে পেডিয়াট্রিকস বা অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সাহায্য নিন।
বাচ্চাদের অ্যালার্জি প্রতিরোধের সহজ কিছু প্যারেন্টিং টিপস

বাচ্চাদের অ্যালার্জি প্রতিরোধের সহজ কিছু প্যারেন্টিং টিপস



বজাতকের ত্বক স্পর্শকাতর হওয়ায় তাদের ত্বকে অনেক সহজেই বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হতে পারে। বাচ্চাদের অ্যালার্জি তাদের জন্য বেশ যন্ত্রণাদায়ক। অ্যালার্জির ফলে বাচ্চাদেরকে গায়ে ফোঁসকা পড়া, ত্বক জ্বালাপোড়া করা ইত্যাদি সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এজন্য বাচ্চাদের অ্যালার্জি হলে তা দ্রুত নিরাময় করার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন নেয়ার মাধ্যমে বাচ্চাদের অ্যালার্জি প্রতিরোধ সম্ভব। আমরা আজকে বাচ্চাদের সাধারণ কিছু অ্যালার্জি, লক্ষণ, প্রতিরোধ সম্পর্কে জানব। এবং বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন সম্পর্কে জানব।

১। একজিমা
৪-৬ মাস বয়সী বাচ্চাদের মাঝে একজিমা হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায় বেশি। সাধারণত একজিমা শরীরের যেকোন স্থানে হতে পারে। বিশেষ করে গালে, কনুইতে, হাতের আঙ্গুলের মাঝে বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত ডায়াপার নির্ভর হওয়ার কারণে শিশুর  কুঁচকিতেও একজিমা দেখা যায়। একজিমা হলে কখনও কখনও ত্বক ফেটে যাওয়ার মতো দেখায়।


কারণ
জেনেটিক কারণে অনেক সময় একজিমা হয়ে থাকে। পরিবারের কারো আগে থেকে একজিমা, আমবাত ও  অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে নবজাতকও একজিমা দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। শিশুকে স্তন প্রদানকারী মা যদি  অ্যালার্জির উপাদান সমৃদ্ধ খাবার (যেমন-চিংড়ি মাছ, চীনাবাদাম, আনারস ইত্যাদি) খান তাহলে শিশুর একজিমা হতে পারে। তাছাড়া আঁটসাঁট জামা কাপড় পরানো, শিশু ঘেমে গেলে তা দ্রুত না মোছা, অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়াও শিশুর একজিমার জন্য দায়ী।


লক্ষণ
শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে হাতের আঙুল, কুঁচকি, কনুই, গাল ইত্যাদিতে ছোট ছোট লাল ফোসকা বা র‍্যাশ দেখা যায়। এইসব ফোসকার মধ্যে হলুদাভ তরল থাকে। একটু চাপে সে তরল বের হয়ে পড়ে ও মাঝে মাঝে জ্বালাপোড়া করে।


প্রতিরোধ
শিশুকে সবসময় পরিষ্কার ও ঢিলেঢালা কাপড় পড়াতে হবে। শিশুকে সবসময় পরিচ্ছন্ন ও শুকনো রাখার চেষ্টা করতে হবে। ঘেমে গেলে বা অন্যকোনভাবে ভিজে গেলে যদি অনেকক্ষণ ধরে তা মোছা না হয় তাহলে ত্বকে ঘামাছি থেকে ধীরে ধীরে একজিমা হতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়ায় শিশুর ত্বকে ময়েশ্চেরাইজার ব্যবহার করলেও একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। ডায়াপারের ব্যবহার কমালেও একজিমা প্রতিরোধ করা যায়।


২।  বাগ বাইট বা পোকার কামড়
বাগ বাইট সাধারণত মশা, ছাড়পোকার মতো কিছু পোকামাকড়ের কামড়ের কারণে হয়ে থাকে। মুখে, হাতে ও ঘাড়ে বাগ বাইট দেখা যায়। বাগ বাইট পরবর্তীতে আমবাতে রূপান্তরিত হতে পারে।

কারণ
এটা সাধারণ পোকার কামড়েই হয়ে থাকে। মশা, ছাড়পোকা, শুঁয়োপোকা, পিঁপড়া ইত্যাদির কামড়ের ফলে শিশুদের ত্বকে এই সমস্যা দেখা যায়।

লক্ষণ
পোকা কামড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যে কামড়ের স্থানে ছোট পাঁচড়ার মতো হয়। এরপর ধীরে ধীরে একটু বড় হয়ে বাদামি রং ধারণ করে। পোকায় কামড়ের ফলে হওয়া এইসব র‍্যাশ বেশ বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে।

প্রতিরোধ
এটা খুবই সাধারণ ধরণের অ্যালার্জি। সাধারণত বেশি গুরুতর হলে ডাক্তাররা এক ধরণের ক্রিম দিয়ে থাকে যা ব্যবহার করলে বাগ বাইট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। প্রতিরোধের জন্য বাসায় মশারী ব্যবহার করতে হবে ও বাসা সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে যেন বাসায় পোকা জন্ম নিতে না পারে।


৩।  হিট র‍্যাশ বা ঘামাচি কারণ
সাধারণত অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া ও শিশুদের ঘেমে যাওয়া হিট র‍্যাশের জন্য দায়ী। শিশুদের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম থাকার কারণে অতিরিক্ত গরমে ঘামাচি হতে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত ডায়াপার নির্ভরতা, আঁটসাঁট কাপড় পরিধানের কারণেও শিশুরা হিট র‍্যাশে আক্রান্ত হতে পারে।

লক্ষণ
সংখ্যায় অনেক কিন্তু ক্ষুদ্র র‍্যাশ দেখা যায় সারা শরীরে। শরীরের আবৃত স্থানগুলোতে অনেক বেশি র‍্যাশ দেখা যায়।

প্রতিরোধ
শিশুকে শুকনো ও ঠান্ডা রাখা, ঘেমে গেলে তাড়াতাড়ি শরীর মুছে দেয়া, আরামদায়ক পোশাক পরানোর মাধ্যমে হিট র‍্যাশ এড়ানো যায়। অনেকে ঘামাচি পাউডার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু ঘামাচি পাউডার ব্যবহারে শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয় বিধায় পাউডার ব্যবহার কম করাই উত্তম।

৪।  দাদ
আমরা সবাই মোটামুটি দাদ-এর সাথে পরিচিত ।দাদ একধরণের ফাংগাল ইনফেকশন। এটা মাথার খুলি, পা ও মানব দেহের গোপন স্থানে হয়ে থাকে।

কারণ
সাধারণত ঘাম ও ভেঁজা কিছুর সংস্পর্শে অনেকক্ষণ ধরে থাকার ফলে শিশু দাদে আক্রান্ত হতে পারে। দাদ ছোঁয়াচেও বটে। পরিবারে কারো দাদ থাকলে সে লোকের দাদের সংস্পর্শে, তার ব্যবহার করা জামা কাপড়, গামছা বা তোয়ালের মাধ্যমেও শিশু দাদ-এ আক্রান্ত হতে পারে।

প্রতিকার
এন্টি ফাংগাল ক্রিম ব্যবহারে দাদ দূর করা সম্ভব। আক্রান্ত স্থান ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে তারপর ক্রিম লাগাতে হবে। বেশিক্ষণ ভেজা কাপড়ে শিশুকে রাখা যাবে না।

বাচ্চাদের অ্যালার্জি  প্রতিরোধে ত্বকের যত্ন
 
বাচ্চাদের অ্যালার্জি জনিত সব রোগই ত্বকের অযত্নের কারণে হয়ে থাকে। বাচ্চাদের অ্যালার্জি জাতীয় রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য ত্বকের সঠিক পরিচর্যার যথেষ্ট।
• শিশুকে প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল না করানোই উত্তম। সাবানের ক্ষার শিশুর ত্বকে প্রাকৃতিক তেলের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে ত্বকে সমস্যা হতে পারে। আর সেই সমস্যা থেকে হতে পারে অ্যালার্জি।
• শিশুর ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য শিশুকে গোসল করানোর পর তার শরীরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বক শুষ্ক থাকবে।
• পোকামাকড়ের কামড় থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে। নিয়মিত মশারী ব্যবহার করতে হবে, বাসা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য শিশুর রুম নিয়মিত বিরতিতে পরিষ্কার পরিষ্কার করতে হবে।
• ত্বকে অ্যালার্জির অন্যতম কারণ শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হওয়া। শিশুর শরীরে ঘাম হওয়া এড়াতে তাকে আঁটসাঁট কাপড় না পরিয়ে সুঁতি ও আরামদায়ক কাপড় পড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
•  অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভবনা থাকে এমন কোন খাবার শিশুকে খাওয়ানো যাবে না ও দুধ খাওয়ানো অবস্থায় মাকে এইসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
• শিশুর রুমের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। খুব বেশি গরম কিংবা খুব বেশি ঠান্ডা রাখা যাবে না।
• শিশুর নখ ছোট রাখতে হবে ও ধারালো রাখা যাবে না। নখের আঁচড়েও অনেক সময় ত্বকে ইনফেকশন হতে পারে।

বাচ্চাদের অ্যালার্জি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ত্বকের যত্ন নেয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ত্বকের সঠিক যত্ন নেয়ার মাধ্যমে বাচ্চাদের অ্যলার্জি প্রতিরোধ করা যায়।
গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন নিন

গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন নিন


পনার স্ত্রী যখন গর্ভবতী হন তখন কী কেবল তিনি একাই গর্ভবতী হন? না একই সাথে গর্ভবতী হোন আপনিও? হ্যাঁ আপনার স্ত্রী একা গর্ভবতী হন না বরং গর্ভবতী হন আপনারা। আপনার স্ত্রীর গর্ভে বেড়ে উঠা আপনাদের পরবর্তী প্রজন্মকে, আপনাদেরকে রককে নিরাপদে পৃথিবীতে এনে তাকে অবাক করে দিতে ও আপনাদের অবাক হয়ে যেতে এবং একই সাথে আপনার স্ত্রীকে নিরাপদ রাখতে, তার ভরসার জায়গা হতে অনেক বেশি দায়িত্ব থাকে আপনার। আজকের ব্লগটা আপনার স্ত্রীর জন্য না, আপনার অনাগত সন্তানের জন্যও না, আজকের ব্লগটা আপনার জন্য। গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন নিয়ে আপনার দায়িত্ব সম্পর্কেই আজকের ব্লগ। পড়ুন, জানুন ও গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন নিন।

নিজের জানার পরিসর বাড়ান
গর্ভধারণের এই সময়টাতে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকতে হবে। এই সময়টা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে ও ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। এই সময়ে গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন, তার খাদ্যাভাস, পোশাক পরিচ্ছদ, গর্ভধারণের সময়টার প্রতি ধাপে স্ত্রীর কেমন যত্ন দরকার এমন সব কিছু সম্পর্কে জানতে হবে। সেজন্য এই সম্পর্কিত বই সংগ্রহ করে জেনে নিন অথনা ইন্টারনেট থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে আপডেট রাখুন।


মর্নিং সিকনেসে স্ত্রীর পাশে থাকুন
গর্ভাবস্থায় প্রথম ৬-১৪ সপ্তাহ গর্ভবতী নারীর সকাল বেলায় বা কখনো কখনো অন্যান্য সময়ে যে বমি বমি ভাব হয় সেটাই মর্নিং সিকনেস। এই সময়ে স্ত্রীর খেয়াল রাখুন, তার পাশে থাকুন। এই বমি বমি ভাবটা সবারই হয়ে থাকে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে না রেখে তাকে কিছু খাওয়ান ও খাওয়ার পর তাকে সাথে করে একটু হাটাহাটি করুন। এতে বমি বমি ভাবটা কিছুটা হলেও কমবে। আপনি এই সময়টাতে স্ত্রীর পাশে বসে তার মাথায় হাত রাখতে পারেন, মাথায় একটু পানি দিতে পারেন। এতে সে ভরসা পাবে ও মানসিকভাবে কিছুটা সাহস পাবে ও ফুরফুরে থাকবে।


তার অনুভূতি বুঝুন ও উৎসাহ দিন
গর্ভধারণের সময়টাতে স্ত্রী অনেক হ্যাপি ও এক্সাইটেড যেমন থাকে তেমনি ধীরে ধীরে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হয়। ঘনঘন মুড চেঞ্জ হওয়া, ব্যথা, মানসিক অবসাদ, ভয়, চিন্তা, অনিশ্চয়তা ইত্যাদি সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে। এই অনুভূতিটা প্রাকৃতিক, এই অবস্থায় সবারই এমন হয়। এই সময়ে তার সবচেয়ে বেশী দরকার মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকা। সেজন্য তাকে সমর্থন দিন ও তার অনুভূতিগুলো বুঝুন। এই সময়টাতে স্ত্রীকে প্রচুর সময় দিন। তার পাশে থেকে সাহস যোগান। তাকে এই সাহস দিন যে, এই জার্নিতে আপনারা সবাই তার পাশেই আছেন।


নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখুন
এই সময়টাতে আপনার স্ত্রী যেকোন সময় অসুস্থতাবোধ করতে পারে। ফলে আপনার প্ল্যান হুটহাট পরিবর্তন করতে হতে পারে। আর আপনি যদি ওয়ার্কিং হাজবেন্ড হন, তাহলে সেটা আপনার জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু তারপরও এই সময়টাতে স্ত্রীকেই বেশীই গুরুত্ব দিতে হবে, কোনভাবেই তার প্রয়োজনীয়তা এড়া্নো যাবে না। প্রয়োজনে আগে থেকেই আপনার কর্মস্থলে এই সময়টার সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে রাখুন।

মাঝে মাঝে স্ত্রীর জন্য রান্না করুন
সবসময় স্ত্রীকে রান্নায়তো সাহায্য করবেনই আবার মাঝে মাঝে তাকে রান্না ঘর থেকে ছুটি দিয়ে আপনি তার জন্য স্পেশাল কিছু রান্না করুন অথবা তার পছন্দের কোন খাবার রান্না করে তাকে পরিবেশন করুন। এতে সে অনেক খুশী হবে ও তার মধ্যে বিশেষ একটা ভালো লাগা কাজ করবে। যা তাকে মানসিক ও শারীরিক দু-ভাবেই অনেক বেশী চাঙ্গা রাখবে। নিজে রান্না না পারলে তাকে রান্নায় সাহায্য করুন অথবা বাইরে থেকে তার জন্য স্বাস্থ্যকর ও তার প্রিয় কোন খাবার নিয়ে আসুন।


স্ত্রীর সঙ্গে ডাক্তা্রের কাছে যান
এই সময়টাতে নিয়মিত ডাক্তারও ও চেকআপ তো করবেনই, সাথে চেষ্টা করবেন আপনি নিজে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। তার সাথে বসে ডাক্তারের সব কথা শুনবেন ও পরামর্শ শুনবেন। পরামর্শ অনুযায়ী স্ত্রীকে সাহায্য করবেন। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় সম্পর্কে নিজেকে আপডেট রাখুন। এতে আপনার স্ত্রী সাহস পাবে ও নিজেকে একা ভাববে না।


ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত থাকুন
সেই বিশেষ দিনটার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখুন। সকল চিন্তা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সমস্যা আপনি মোকাবেলা করুন। তা যেন আপনার স্ত্রীর উপর কোন প্রভাব না ফেলে। আগে থেকে রক্তের জন্য পরিচিত ডোনার ঠিক করে রাখুন, আর্থিক ব্যাকআপ আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। কারণ ওই সময়টা বেশ দ্রুত যাবে, তখন সাথে সাথে এইসব প্রস্তুত করতে পারবেন না। সেজন্য ডেলিভারি ডেটের অন্তত একমাস আগে সব ধরণের প্রস্তুতি সেরে রাখুন।


তার সাথে পরিকল্পনা করুন
স্ত্রী গর্ভবতী এটা জানার পর থেকে নিজের ভেতর একটা বাবা স্বত্বা জন্ম নেয়। একই ভাবে আপনার স্ত্রীর মাঝেও জন্ম নেয় একটা মা স্বত্বা। এই সময়টাতে স্ত্রীকে মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখতে দুজনে মিলে কিছু প্ল্যান করুন। বাচ্চার নাম ঠিক করতে পারেন, জন্মের পর প্রথম জামার রঙ কি হবে তা নিয়ে খুনসুটি করতে পারেন। এমন ছোট ছোট পরিকল্পনা ও কিছু খুনসুটি আপনার স্ত্রীকে এই জটিল জার্নিটা সম্পন্ন করতে মানসিকভাবে সাহায্য করবে।

গর্ভধারণের ১০ মাস একজন নারীর জন্য খুবই নাজুক ও কঠিন একটা সময়। একজন স্বামী হিসেবে এই জার্নিটা আপনারও। এই সময়টার মানসিক জটিলতার কারণে অনেক সময় গর্ভধারিণী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। এজন্য গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন নিতে হবে। এই জার্নিতে স্ত্রীর সহযাত্রী হতে হবে আপনাকেও।

Tuesday, 1 October 2019

শিশুর যত্নে তেল

শিশুর যত্নে তেল


Simple Post with all Heading Tags 
 

llentesque vitae lectus in mauris sollicitudin ornare sit amet eget ligula. Donec pharetra, arcu eu consectetur semper, est nulla sodales risus, vel efficitur orci justo quis tellus. Phasellus sit amet est pharetra, sodales ipsum et, sodales urna. In massa nisi, faucibus id egestas eu, fringilla sit amet velit. Integer vel dui eget lacus fermentum ornare ac at nisl. Cras justo urna, lacinia vel massa at, tincidunt posuere lectus. Nulla pretium ultrices velit ut malesuada. In arcu sem, elementum at nunc eu, ullamcorper bibendum lorem. Quisque rhoncus lacinia volutpat. Mauris tempus enim ornare neque rutrum mollis. Sed faucibus laoreet malesuada. Nam est enim, vulputate id porta id, maximus sagittis nulla.
 
 
 
 
 
 

Wednesday, 14 August 2019

 ন্যায্য দাম না পেয়ে ৯০০ চামড়া মাটিচাপা

ন্যায্য দাম না পেয়ে ৯০০ চামড়া মাটিচাপা


ন্যায্য দাম না পেয়ে ৯০০ চামড়া মাটিচাপা


How to Use Enhanced Campaigns With Geo-Based Bid Modifiers



ন্যায্য দাম না পেয়ে কোরবানির পশুর ৯০০টি চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, ১৩ আগস্ট। ছবি: সংগৃহীতন্যায্য দাম না পেয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে কোরবানির পশুর ৯০০টি চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও সৈয়দপুর হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসার পক্ষে থেকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া বিক্রির জন্য দুই দিন ধরে চেষ্টা করেও ন্যায্য দামে তা বিক্রি করতে পারেনি। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে চামড়াগুলো মাটি চাপা দেয় তারা।
ওই মাদ্রাসার মুহতামিম সৈয়দ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য এবারও আমাদের মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে কোরবানির পশুর ৯০০ চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে গরুর চামড়া রয়েছে ৮০০টি এবং ছাগলের চামড়া ১০০টি। এসব চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো মাটি চাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘চামড়াগুলো সংগ্রহ ও চামড়ায় লবণ ব্যবহারে জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।’
সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া বলেন, চামড়ার দামে এমন পতনে ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য সংগৃহীত চামড়াগুলো মাটি চাপা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
রাত ১০টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে নয় শ চামড়া মাটি চাপা দেওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আর্থিকভাবে এখন স্বাবলম্বী। ফলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তারা এ ধরনের কাজ করেছে।’